১৮ জুন আসাম রাইফেলসের ওপর হামলার প্রতিউত্তর

0
396

বুধবার মিয়ানমারে ভারতের প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর আক্রমণ এনএসসিএন (কে) উলফার আসাম রাইফেলসের উপর আক্রমণের প্রতিউত্তর ছিলো মাত্র। ১৮ জুন (কে) উলফার সেই পরিকল্পিত হামলায় আসাম রাইফেলসের ৩ সৈন্য নিহতসহ অনেকেই আহত হন। নর্থ ইস্ট-এর প্রতিবেদন অনুসারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতের প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর হামলায় উলফা (কে) গ্রুপের কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন।

প্যারা কমান্ডো বাহিনী ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ১৫১ নম্বর পিলার অতিক্রম করে দুপুর দুইটায় ভারতে প্রবেশ করে এবং মিয়ানমারের সোয়েলো অঞ্চলে অবস্থিত বিদ্রোহীদের ক্যাম্পে হামলা চালায়। কিন্তু মিয়ানমার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলেই ভারতের সেনাবাহিনী এই অভিযান নিয়ে গণমাধ্যমে কোন আলোচনা করেনি। কেননা বিগত সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতের প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর অভিযান সম্পর্কে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিকার গণমাধ্যমে কথা বললে তার তীব্র পতিক্রিয়া জানিয়েছিল মিয়ানমার। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দেওয়াল এবং পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করকে মিয়ানমারে ছুটে যেতে হয়েছিলো।

মিয়ানমারে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে থাকা এবং বর্তমান নেতা অং সাং সুচি সে সময় ভারতের এই অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন, সেই সঙ্গে এই অভিযান মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

অথচ ২০১৫ সালে তার অধীনে এনএলডি পার্টি বড় ব্যবধানে জয়ী হলে সুচি জানিয়েছিলেন, ‘মিয়ানমারের মাটি ভারতের ওপরের হামলার জন্য কখনো ব্যবহার করতে দেয়া হবে না’। গত বছর দেশটির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের সেনা কমান্ডার মেজর জেনারেল ফোন মায়েত তার শিলং সফরেও এ বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করে। কিন্তু তাদের এই নিশ্চয়তা প্রদানের পরও ভারতের সেনা বাহিনীর ওপরে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে হওয়া হামলা ভারতীয় প্যারা-কমান্ডো বাহিনীকে বাধ্য করেছে নতুন করে ভাবতে। কেননা প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর দাবি অনুসারে, মিয়ানমার আর্মি উলফা কে গ্রুপ সহ ভারতের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে খুব সামান্য কাজ করছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে, মিয়ানমারের এই অঞ্চলগুলোতে দৃঢ় ঘাঁটি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিয়মিত ট্রান্সপোর্ট সুবিধাও চালু হয়েছে বিদ্রোহীদের। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীরা এই বিদ্রোহীদের দমনে তেমন কোন পদক্ষেপই নিচ্ছে না। অথচ এই বিদ্রোহীদের দমনের জন্য তেমন কোন বড় অভিযানেরও প্রয়োজন নেই। সেনাবাহিনীর প্রতিবেদন অনুসারে, মিয়ানমার সীমন্তে স্থাপিত এই ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে ভারতে বারবার আক্রমণ চালাচ্ছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। আর এ কারণেই বিদ্রোহীদের এ সকল হামলার একটি প্রতিউত্তর হয়ে আছে এই সপ্তাহে ভারতীয় প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর অভিযান।

নাগাল্যান্ডের শীর্ষ এক সেনা কর্মকর্তা জানান, প্যারা-কমান্ডো বাহিনী এ ধরণের অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকে। পরবর্তীতেও সীমান্ত নিকটবর্তী স্থানে হামলার জন্য বিদ্রোহীরা ক্যাম্প স্থাপন করলে তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকবে ভারতীয় প্যারা-কমা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য প্রদান করুন
আপনার নাম প্রদান করুন